দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
নাজমুস সাকিব | ঢাকা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
আপডেট: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তাবিত চুক্তি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তিতে এমন একটি শর্ত রাখা হচ্ছে, যার ফলে আগামী ১৫ বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রতিযোগী কোনো বেসামরিক বিমানবন্দর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না।
বিষয়টি সামনে আসার পর দেশের ভবিষ্যৎ বিমানবন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জাপানি কনসোর্টিয়ামের কয়েকটি বিতর্কিত শর্তে সম্মতি দিয়েছে।
১৫ বছরের বিধিনিষেধে কী থাকছে?
প্রস্তাবিত চুক্তির অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে আগামী ১৫ বছর কোনো প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
তবে এই শর্তের অর্থ নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা নয়। অন্য বিমানবন্দর পরিকল্পনা বা নির্মাণ এবং সামরিক স্থাপনা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলত নতুন কোনো প্রতিযোগী বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ সীমিত করার বিষয়টিই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও যেসব শর্ত নিয়ে আপত্তি
শুধু নতুন বিমানবন্দর পরিচালনার বিধিনিষেধই নয়, প্রস্তাবিত চুক্তিতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব ভাগাভাগি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আইন পরিবর্তিত হলে তার আর্থিক প্রভাব, টার্মিনালের নির্মাণত্রুটির দায় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যক্রমে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত প্রয়োগ।
বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম এবং নিজস্ব ফ্লাইট পরিচালনাকে একই ধরনের চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার আওতায় আনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রাজস্বের ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা থেকে নির্ধারিত রাজস্বের ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশের সরকারি অংশীদার।
তবে টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু থাকার সময় এই হার কম হতে পারে। সেই অন্তর্বর্তী হার কত হবে এবং কত দিন কার্যকর থাকবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে চুক্তির আর্থিক সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য চূড়ান্ত শর্তগুলো জানা জরুরি।
কেন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে?
বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ এবং ঢাকাকে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে নতুন অবকাঠামোর প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রতিযোগী বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত রাখার শর্ত ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এ ছাড়া একটি নির্দিষ্ট কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা চালানোর কারণে বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, নতুন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করলে কার্যক্রম শুরু করতে আরও সময় লাগতে পারে।
চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং সংশোধিত চুক্তির খসড়া পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দেশের স্বার্থ রক্ষাই বড় চ্যালেঞ্জ
বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
কিন্তু সেই সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে ভবিষ্যতের বিমানবন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনা কিংবা রাষ্ট্রীয় আর্থিক স্বার্থ সীমিত হয়ে পড়বে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এখন সংশ্লিষ্টদের নজর চূড়ান্ত চুক্তির শর্তগুলোর দিকে। বিশেষ করে ১৫ বছরের বিধিনিষেধ, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং ভবিষ্যৎ আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো কতটা স্বচ্ছভাবে নির্ধারণ করা হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই চুক্তি নিয়ে চলমান উদ্বেগের সমাধান।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন খান
নির্বাহী সম্পাদক: সাঈদ মোহাম্মদ আদনান খান
বার্তা সম্পাদক: আয়শা জান্নাত খানম
ডিজিটাল বস : মোহাম্মদ রাকিব হোসাইন খান
Email: joruribarta@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1841632000
Address: Plot-371/A, Block-C, Bashundhara Residential Area, Baridhara. , Dhaka, Bangladesh, 1229
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team