মাওলানা তারেক আবেদিন কাদেরী তাঁর বক্তব্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সৃষ্টি যে নূর থেকে হয়েছে, সেই বিষয়টি বেশ কিছু কুরআন ও হাদিসের দলিল দিয়ে প্রমাণ করেছেন। তিনি এই বিশ্বাসকে ইসলামের মূল ভিত্তিগুলোর মধ্যে একটি বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর আলোচনার মূল বিষয়গুলো নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
কুরআনের দলিল
মাওলানা তারেক আবেদিন কাদেরী তাঁর আলোচনায় পবিত্র কুরআনের বেশ কিছু আয়াত তুলে ধরেছেন, যেগুলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নূর হিসেবে উল্লেখ করে। তিনি সূরা মায়েদার ১৫ নম্বর আয়াতটি বিশেষভাবে তুলে ধরেন, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “হে কিতাবধারীগণ! তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল এসেছেন, যিনি কিতাবের এমন অনেক কিছু তোমাদের কাছে স্পষ্ট করে দেন, যা তোমরা গোপন করে রেখেছিলে। আর আল্লাহ তোমাদের কাছে এক নূর এবং সুস্পষ্ট কিতাব প্রেরণ করেছেন।” এই আয়াতে "নূর" বলতে যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কেই বোঝানো হয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি জালালাইন শরীফের ব্যাখ্যা উল্লেখ করেন।
হাদিসের দলিল
কুরআনের পাশাপাশি মাওলানা তারেক আবেদিন কাদেরী হাদিসের বিভিন্ন কিতাব থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নূরের সৃষ্টি সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রসিদ্ধ হাদিস তুলে ধরেন। তিনি 'মাদারিজুন নবুওয়াহ' কিতাবের ৩০৯ পৃষ্ঠার একটি হাদিস উল্লেখ করেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে বলেছেন, “সর্বপ্রথম আল্লাহ আমার নূর সৃষ্টি করেছেন।” তিনি আরও কিছু হাদিসের কথা বলেন, যেখানে রাসুল (সা.)-কে "নূর" বা "আঁধার দূরকারী প্রদীপ" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হাদিসগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সৃষ্টি অন্য সবার থেকে আলাদা এবং তা নূর থেকে হয়েছে।
বিশেষ আলোচনা: রাসুলুল্লাহ (সা.) মানব না নূর?
আলোচনার এই অংশে মাওলানা কাদেরী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মানবীয় রূপ ধারণ করে আমাদের মাঝে এসেছিলেন, তবে তাঁর আসল সৃষ্টি নূর থেকে। তিনি মাটির তৈরি ছিলেন না, বরং তাঁর শরীর মোবারক ছিল নূরের মতোই পবিত্র ও নিষ্পাপ। যেমন, তাঁর কোনো ছায়া ছিল না এবং তাঁর দেহ থেকে সবসময় সুগন্ধ আসতো। এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি আমাদের মতো সাধারণ মানুষ ছিলেন না, বরং আল্লাহর এক বিশেষ সৃষ্টি।
তিনি এই বিষয়ে জালালাইন শরীফের একটি ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন, যেখানে বলা আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মানবীয় রূপ ধারণ করে আসায় মানুষ তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পেরেছে। যদি তিনি কেবল নূর হিসেবে থাকতেন, তবে আমাদের পক্ষে তাঁর অনুসরণ করা সহজ হতো না।
মাওলানা তারেক আবেদিন কাদেরী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এই বলে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নূর হিসেবে বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের অংশ। এই বিশ্বাস আমাদের তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং সম্মানকে আরও বাড়িয়ে তোলে।a